পিচ্চির ভালোবাসা পর্ব_২


#পিচ্চির_ভালোবাসা 
 #পর্ব_২

#আরিফুল_ইসলাম_আরিফ আরিফের এমন কথায় আঁখির বুকের ভেতর ছ্যাত করে উঠলো। লকেট টা গলায় পড়িয়ে দিয়ে আরিফ আঁখির ঘাড়ে গলায় গভীর ভাবে কিস করতে লাগল। আঁখির জীবনের প্রথম কোনো ছেলের গভীর স্পর্শে আঁখি শিউরে উঠলো। আঁখিকে ঘুড়িয়ে এবার কপালে চু*মু খেলো। আরিফের এই সব কান্ডে আঁখি যেন ফ্রিজ হয়ে গেলো। আঁখির হাত ধরে আঁখি কে বেডে বসালো। তারপর বলল... " আমার কিন্তু একটা শর্ত আছে " আঁখি সন্দিহান চোখে তাকালো। আরিফ দুষ্টু হেসে আঁখির কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল... তুমি যা ভাবছো তেমন টা নয় পিচ্চি পাখি। তবে,বলে আরিফ আবারো দুষ্টু হাসি তে হেসে উঠলো। আঁখি এবার শুকনো ঢোক গিলে মিনমিনিয়ে বলল, আঁখি : তবে কী ? আরিফ : কিছু তবে ভালোবাসার স্পর্শ তো তোমাকে পেতেই হবে পিচ্চি পাখি। আঁখির ভিতরে শিহরণ জেগে উঠে। আরিফ তাঁকে খু*ন করেই ফেলবে। আরিফ কে কিছু একটা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে কিন্তু অভিমানে আর বলল না। আরিফ বলল... তুমি যেমন বিয়ের আগে শর্ত রেখেছিলে আমি এখন শর্ত রাখবো। তুমি কি রাজি আমার শর্তে? আঁখি নিচু স্বরে বলল.... " জি বলুন কী শর্ত ? "

আরিফ আঁখির ঘাড়ের কাছে মুখ নিয়ে আঁখির হাতের পাঁচ আঙুল কে নিজের পাঁচ আঙুল দিয়ে আবদ্ধ করে বলল.. "রোজ আমার বুকে মাথা রাখতে হবে" আঁখি চমকে উঠলো চোখ দুটো কেমন বিচলিত হয়ে গেছে। নিচু স্বরে বলল.. " না এটা সম্ভব না " আরিফ মৃদু হেসে বলল.. তাঁর মানে তুমি আজ থেকেই আমার স্পর্শ পেতে চাচ্ছো। ঠিক আছে কোন সমস্যা নেই। আমি তোমায় আজকের দিনটা নিজেকে প্রস্তত করার জন্য এই শর্ত দিয়েছিলাম কিন্তু চমৎকার তুমি তো আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে আছো। এই টুকু বলেই আরিফ আঁখির কাছে আসছিলো। আঁখির গলা শুকিয়ে যাচ্ছে আঁখি তাড়াতাড়ি বলল.... নাহ নাহ আমি শর্তে রাজি। প্লিজ আজকে অন্তত.... আরিফ আলতো হেসে আঁখির মুখ টা হাতের মাঝে আবদ্ধ করে আঁখির ঠোঁটে আলতো ভাবে নিজের ঠোট ছুঁয়ে দেয়। আরিফের ঠোঁটের স্পর্শ পেয়ে আঁখি ফ্রিজ হয়ে গেছে সাছে সাথে চোখ বন্ধ করে নিলো। আরিফ এবার আঁখির দুই চোখের পাতাতে চুমু খেলো। আঁখি আরিফের পাঞ্জাবি আকরে ধরলো। আরিফ আঁখির কানের কাছে মুখ নিয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে কানে নিচের অংশ তে হালকা করে কা*ম*র দিয়ে তারপর বলল.. আমার এই টুকু ছোঁয়াতেই কাতর তুমি পাখি। আমাকে ভালো না বেসে পারবে তুমি? আঁখি চুপ করে রইলো‌। তানভির আঁখি কে বুকের মাঝে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। আঁখি ও কিছু বলল না,সে ও গরম আবেশে আরিফের বুকে ঘুমিয়ে পড়ল। এভাবেই কেটে যায় বেশ কয়েকটি দিন। আরিফ সেই যে বিয়ের পরের দিন নিজের বাসায় গেছে,আর আসেনি। আজ পঁচিশ দিন হয়ে গেল। আর এইদিকে... আঁখি নিজের ব্যালকনিতে বসে বসে ফুল গুলো কে দেখছিলো,মন টা ভালো নেই। মিনমিনিয়ে বলল, কী সুন্দর ওরা ইসসস ওদের মতো যদি হতে পারতাম। আচমকা পেছন থেকে কেউ একজন জড়িয়ে ধরে বলল, পিচ্চি পাখি ফুলের থেকেও তুমি অনেক বেশি পবিত্র। ফুল কে তো নানান রকমের মানুষের হাতের স্পর্শ পেতে হয় বিশেষ করে মেয়ে ছেলে দু'জনের এই । কিন্তু তুমি তো শুধু আমার হাতের স্পর্শে পাবা। আর পিচ্চি পাখি ফুল তো ঝরে যায়। যারা ওকে স্পর্শ করে তাঁরা ও ওকে ভুলে যায় আর ও যাদের স্পর্শ পায় তাঁদের কে ও ভুলে যায়। মাঝখানে কৃতিত্ব কিছুই নেই,যা আছে তা হলো ক*ল*ঙ্ক । আর তুমি তো পবিত্র হ্যাঁ অনেক বেশি পবিত্র। তোমার সর্বাঙ্গে শুধু থাকবে আমার স্পর্শ। আরিফ কে দেখে চমকে গেল আঁখি। ওর ভাবনায় আসে না কখন এলো ছেলে টা। আঁখি নিচু হয়ে গেছে। আরিফ বলল,, " আমি ফোন করেনি বলে তুমিও ফোন করবেনা নাকী ? " আঁখি কিছু বলতে পারলো না। ওর মনে যে বড্ড অভিমান। আরিফ আঁখি কে একটা ছোট্ট পুতুল হাতে দিলো। আরিফ মিটিমিটি হাসছে এই দেখে আখি বলল... পুতুল এনেছেন যে। পুতুল দিয়ে আমি কী করবো ? আরিফ উত্তরে কিছু বলল না শুধুই হাসলো। আঁখি যেন কিছুই বুঝলো না। আরিফ রুমে ঢুকে সোজা শাওয়ারে গেলো। শাওয়ার শেষে ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছে ঠিক এই সময়ে আঁখির আম্মু এসে বললেন.. " আখি আরিফ কে নিয়ে খেতে আয়। ছেলেটা সেই কখন এসেছে।" আঁখি উত্তরে শুধু হুম বলল। আঁখির আম্মু চলে যেতেই বিছানার কাছে আরিফ কে বলল... " আম্মু ডাকছেন। " পাঁচ মিনিট বসো কাজ টা শেষ করে নেই। আঁখি বসলো আরিফ কাজ শেষে বলল.. চলো ( আরিফ ) আঁখি আগে যাওয়ার জন্য পা বারালো তখনই আরিফ হ্যাঁচকা টান দিয়ে আঁখি কে বুকে নিয়ে আসল। নিজেকে ছাড়াতে ছাড়াতে আঁখি বলল... আহ্ ছাড়ুন বলছি দরজা বন্ধ করা নেই আম্মু আসতে পারে। আরিফ আঁখির চোখে চোখ রেখে বলল... তাঁর মানে বলছো, দরজা বন্ধ থাকলে তোমাকে কাছে নিয়ে আসতে কোন সমস্যা হতো না তাই তো। " নিজের কথায় নিজেই বোকা বনে গেলো মেয়েটা। আঁখি তুতলিয়ে বলল.. মানে ? " আরিফ আঁখি কে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে ওকে পেছন থেকে জড়িয়ে কাঁধে নিজের থুতনি রেখে বলল...মানে আজকে রেডি থেকো। " তানভিরের সাথে আঁখির আয়নাতে চোখ রাখা রাখি হওয়ায় আখি বেশ লজ্জা পেল। সাথে সাথে চোখ সরিয়ে নিলো।" আঁখির আম্মু আঁখি কে আবার ডাক দিলেন। আঁখি আরিফ কে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না। অখত্যা আরিফের বাহুতে আবদ্ধ হয়েই আঁখি বলল.. " আসছি আম্মু " ( আঁখি ) আরিফ বলল... ভুলো না কিন্তু ! এই বলে দুষ্টু হাসি দিলো। আঁখি আরিফ কে বলল.. আম্মু ডাকছে তাড়াতাড়ি চলুন। বিকেল বেলায় আরিফ আঁখির হাতে লাল টুকটুকে সিল্কের শাড়ি দিয়ে বলল... তৈরি থেকো। " না পারব না " ( আঁখি ) সমস্যা নেই আমি বুঝতে পারছি তুমি আমার থেকে ও হাজার গুণ রোমান্টিক। আঁখি অবাক ও চোখে তাকিয়ে বলল.. মানে ? ( আঁখি ) "মানে টা হলো কেমন কায়দা করে আমার হাতে শাড়ি পরার জন্য রেডি হবে না বললে।" আঁখি সম্পূর্ন বোকা বনে গেলো.. আরিফ আবার বলল.. রেডি থেকো আর না হলে আমি এসে রেডি করিয়ে দিবো। সবশেষে রাতে আঁখি রেডি হয়ে বসে আছে। মুখে হালকা মেকআপে আঁখি কে অপ্সরীর থেকে কম লাগছে না। আরিফ নিচে গাড়ি নিয়ে বসে আছে। আঁখি কে ফোন করে বলল নিচে আসতে আঁখির আব্বু আম্মু কে তানভির আগে থেকেই সব বলে রেখেছিলো। তাই আঁখি রুম থেকে বের হতেই আঁখির আব্বু আম্মু বললো... "সাবধানে যাস মা ।" আখির আম্মু আঁখির কপালে চু*মু খেয়ে বললেন, দেখিস মা তুই খুব সুখি হবি। আঁখি কিছু বলল না শুধু বিদায় জানিয়ে নিচে চলে আসলো। গাড়ি চলছে তাঁর আপন গতিতে। আরিফের পাশে বসে আছে তাঁর লাল টুকটুকে পিচ্চি পাখি। " একটু পর পর আরিফ আঁখি কে দেখছে। আঁখি বুঝতে পারছে কিন্তু কিছুই বলছে না । আঁখি আরিফের দিকে হালকা তাকালো।" ছেলেটার মুখে স্নিগ্ধ হাসি মনে হচ্ছে সে বিশ্ব জয় কেরে ফেলেছে। অসম্ভব মায়ায় ভরা যে কেউ প্রেমে পরতে বাধ্য। " আরিফ আঁখির দিকে তাকানো মাত্রই ওদের দুজনের চোখে চোখ আটকে যায় আঁখি লজ্জা পেয়ে বাইরে দিকটায় তাকায়। আরিফ মৃদু হেসে বলল.. লুকিয়ে দেখার কী আছে। সরাসরিই দেখো আমি তো অন্য কেউ না তোমারেই খুব কাছের একজন।" আঁখি আরিফের কথায় লজ্জা পেল কারণ সে ধরা খেয়ে গেছে। কিন্তু কি করবে বে*হা*য়া চোখ তো মানুষটির স্নিগ্ধ হাসি দেখার লোভ সামলাতে পারে নি। আঁখি পুরো রাস্তা চুপ করেই ছিলো। আরিফ ও কিছু বলেনি আর। হঠাৎ গাড়ি থামলো এক ডুপ্লেক্স বাংলোর সামনে। আরিফ বেরিয়ে এসে দরজা খুলে। আঁখির দিকে হাত বাড়ালো আঁখি..... চলবে.....

1 মন্তব্যসমূহ

নবীনতর পূর্বতন